বৃহস্পতিবার , ১৩ নভেম্বর ২০২৫ | ২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. ইতিহাস
  6. উদ্ভাবন ও গবেষণা
  7. কন্টেন্ট ফ্যাক্টরি
  8. খুলনা
  9. খেলা
  10. গুজব বাক্স
  11. চট্টগ্রাম
  12. চাকরি
  13. ছবি
  14. জাতীয়
  15. জীবনযাপন

বিশ্বের বৃহত্তম প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর খুলল গিজায়

প্রতিবেদক
রিদওয়ান
নভেম্বর ১৩, ২০২৫ ৩:০০ পূর্বাহ্ণ

উদ্বোধনের রাত: ইতিহাসের আলোয় ঝলমলে গিজা
Grand Egyptian Museum inauguration night
গিজার পিরামিডের পাশে আলো–আয়োজনে উদ্বোধিত হলো গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম (ছবি: BBC)

দুই দশকের অপেক্ষা শেষে গিজায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল বিশ্বের বৃহত্তম প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর—গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম (GEM)।
১ নভেম্বর ২০২৫ রাতে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল–সিসি এর উদ্বোধন করেন। আতশবাজি, ড্রোন লাইট শো এবং প্রাচীন মিসরীয় সুরে ভরপুর আয়োজনটি যেন সময়ের সীমা পেরিয়ে দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়েছিল হাজার বছর আগের ফারাও যুগে।

দুই দশকের শ্রমে গড়া মহাকাব্যিক স্থাপনা
এই প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয় ১৯৯২ সালে, আর নির্মাণ শুরু হয় ২০০৫ সালে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট ও মহামারি পেরিয়ে অবশেষে বাস্তব রূপ পেল স্বপ্নের এই প্রকল্প। প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই স্থাপনাটি বিস্তৃত প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে—যা একক কোনো সভ্যতার জন্য নির্মিত সবচেয়ে বড় জাদুঘর।

ইতিহাসের ধনভান্ডার এক ছাদের নিচে

Ramses II statue inside GEM
প্রবেশদ্বারেই দর্শকদের স্বাগত জানাচ্ছে ৮৩ টন ওজনের ফারাও রামেসিস দ্বিতীয়ের বিশাল ভাস্কর্য (ছবি: Hannah Pethen)

প্রবেশ করলেই দেখা যায় ৩২০০ বছর পুরনো ফারাও দ্বিতীয় রামেসিসের বিশাল মূর্তি—যা জাদুঘরের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
এখানে সংরক্ষিত রয়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি প্রত্নবস্তু, যেগুলোর মধ্যে কিছু বিশ্বে একক অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।

তুতানখামুন: এক রাজা, এক কিংবদন্তি

File:Mask of Tutankhamun 2003-12-07.jpg

তুতানখামুনের সোনার মুখোশ—প্রথমবারের মতো এক স্থানে তাঁর সমাধির সব ধনরত্ন (ছবি: Wikimedia Commons)

সবচেয়ে আলোচিত আকর্ষণ হলো বালক রাজা তুতানখামুনের সমাধির ধনরত্ন।
প্রথমবারের মতো তাঁর সোনার মুখোশ, রাজসিংহাসন, রথ, গহনাসহ প্রায় ৫ হাজার প্রত্নবস্তু একই স্থানে প্রদর্শিত হচ্ছে।
এই প্রদর্শনীই জাদুঘরটিকে বিশ্বের ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে অপরিহার্য গন্তব্যে পরিণত করেছে।

প্রাচীন সূর্যনৌকা: সময়ের সীমানা পেরিয়ে
Ancient Pharaoh King Khufu's boat carried to Egypt museum ...

৪৫০০ বছর আগের খুফুর সূর্যনৌকা এখন সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত (ছবি: CNN)

এখানে প্রদর্শিত খুফুর সূর্যনৌকা ৪,৫০০ বছর আগে তৈরি হয়েছিল ফারাওয়ের পরকালীন যাত্রার প্রতীক হিসেবে।
২০২৪ সালে আংশিক প্রদর্শিত হলেও এখন এটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হয়েছে।

পর্যটনে নতুন অধ্যায়

২০১১ সালের আরব বসন্তের পর মিসরের পর্যটন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
সরকার আশা করছে, জিইএম সেই ক্ষতি পুষিয়ে নতুন অর্থনৈতিক গতি এনে দেবে।
২০২৪ সালে রেকর্ড ১ কোটি ৫৭ লাখ মানুষ মিসর ভ্রমণ করেছেন। সরকারের লক্ষ্য, ২০৩২ সালের মধ্যে এই সংখ্যা দ্বিগুণ করা।

প্রতিদিন গড়ে ১৫–২০ হাজার দর্শনার্থী এখানে আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য টিকিট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৩০–১,৪৫০ মিসরীয় পাউন্ডের মধ্যে।

সর্বশেষ - সর্বশেষ

আপনার জন্য নির্বাচিত