দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তন না এলেও চিকিৎসকেরা বলছেন, তিনি স্থিতিশীল আছেন।
গত ২৮ নভেম্বর থেকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন তিনি। ফুসসুস ও হৃদযন্ত্রে সংক্রমণের অবস্থা অবনতির দিকে যাওয়ায় তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে দেশি-বিদেশী সমন্বিত মেডিক্যাল টিম তার অবস্থা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, তিনি ধীরে ধীরে রেসপন্স করছেন, তবে স্বাস্থ্যের প্যারামিটার ওঠানামা করছে। তাই তার অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন।
এছাড়া গতকাল (বুধবার) রিচার্ড বিল নেতৃত্বাধীন যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল টিম ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে কাজ শুরু করেছে । বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে চীনের ডা. চাই জিয়াংফাংয়ের নেতৃত্বে মেডিকেল টিমটি এভারকেয়ার হাসপাতালে আসেন।জানা গেছে, এই মেডিকেল টিমটি খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করবেন।
এদিকে দেশজুড়ে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করছেন আপমর জনতা। মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিভিন্ন ধর্মের মানুষ প্রার্থনায় অংশ নিচ্ছেন। বিএনপি ও সাধারণ মানুষ গরু–ছাগল সদকা করছেন, রাতে তাহাজ্জুদে কায়েম থাকছেন, বিভিন্ন স্থানে চলেছে দোয়া মাহফিল।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস হাসপাতালে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার খোঁজ নিয়েছেন। তিনি তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনা করে আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে দোয়ার আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ, আপোষহীন নেতৃত্বের জন্য বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় আস্থা-আকাঙ্খা-গণতন্ত্র-মুক্তির প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার দিকে পুরো জাতি তাকিয়ে আছে। তার সুস্থতা এখন জাতীয় আকাঙ্খা ও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।















