বাংলাদেশে ‘সুগার ড্যাডি’ নামে পরিচিত সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ও ই-মেইলের মাধ্যমে এই নোটিশ পাঠান। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) বিবাদী করা হয়।
নোটিশে বলা হয়েছে, এই বিষয়টি এখন আর শুধুমাত্র সামাজিক বা নৈতিক অবক্ষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, এই চক্রের সদস্যরা তরুণীদের ব্যবহার করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং বিদেশি নাগরিকদের ব্ল্যাকমেইল করছে, যা দেশের গোয়েন্দা তথ্য সুরক্ষা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য বিপজ্জনক।
এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অবৈধ অর্থ ও অর্থ পাচারের (মানি লন্ডারিং) মতো গুরুতর বিষয় জড়িত। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, তরুণীদের দেওয়া দামি উপহার, নগদ অর্থ, গাড়ি ও ফ্ল্যাটের মতো বিলাসবহুল সামগ্রীর অর্থের উৎস বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অবৈধ। এই অপ্রদর্শিত অর্থ দেশের অর্থনীতিতে কালো টাকার প্রবাহ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং কর ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
আইনজীবী তার নোটিশে বলেন, ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আর্থিকভাবে অসচ্ছল তরুণীদের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে শোষণ করছে। অনেক তরুণীকে ফাঁদে ফেলে তাদের ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীতে সেগুলো ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। এই চাপের মুখে অনেক তরুণী চাইলেও এই চক্র থেকে বের হতে পারে না, যা তাদের জীবনকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতি বহু পরিবারের ভাঙনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইনজীবী জানান, অনেক ‘সুগার ড্যাডি’র স্ত্রী ও সন্তানরা মানসিক নির্যাতন, অবহেলা ও অপমানের শিকার হচ্ছেন, যার ফলে বিবাহবিচ্ছেদ বাড়ছে এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। এটি দেশের পারিবারিক মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাত হানছে।
এসব কারণে নোটিশ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে একটি সমন্বিত জাতীয় টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, সিআইডি, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, সাইবার ক্রাইম ইউনিট এবং এনবিআরকে নিয়ে এই টাস্কফোর্স গঠন করে ‘সুগার ড্যাডি’ চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায়, জনস্বার্থে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।














